
কি খাবেন, কি খাবেন না, কেন খাবেন, কেন খাবেন না!
আসলে আমরা সবাই বেশী খাবার জন্য হার্ট-কিডনী ড্যামেজ হয়ে মারা যাচ্ছি। আমরা আসলে বেশী খাই। বাইপ্রডাক্ট হিসেবে আল্লাহ হয়তো আমাদের ভুড়ি দান করেন। ভুড়ির থেকেও বড় কথা হল, আমাদের অর্গানগুলো কিন্তু ধীরে ধীরে নষ্ট হচ্ছে বেশী খাবার জন্য। আমরা কিন্তু দিন দিন অসুস্থ হচ্ছি, এফিশিয়েন্সী কমতেছে। কাজেই আসেন সিরিয়াস হই, খাবার কন্ট্রোল করেই সুস্থ থাকি, জাস্ট বাচ্চাদের মতন সুস্থ হয়ে যাই।
বাই দ্য ওয়ে, মেদ ভুড়ি না হয়েও কিন্তু আপনি অসুস্থ হয়ে যাচ্ছেন, যদি ফুড মেইন্টেইন না করেন। সিক্স প্যাক নিয়েও হার্ট ব্লক হচ্ছে অনেকের, ডায়াবেটিস হচ্ছে, কিডনী নষ্ট হচ্ছে। কাজেই চিন্তার ব্যাপার আছে কিন্তু। মেদ ভুড়িই শেষ কথা না। সুস্থতা হল শেষ কথা।
সুতরাং আমাদের একটা ব্যালেন্সড ডায়েট মেইন্টেইন করতে হবে, সারাজীবন।
=========
সাধারণ ভাবে যদি ক্যালরী হিসাব করে খান, তাহলে আপনি কিছুটা সেইফ।
এখন এক্সাক্টলী হিসেব করে খেতে জাতি পারবেনা, কাজেই আনুমানিক কিছু হিসাব দিচ্ছি, একটা ব্যালান্সড ডায়েট করে। আসুন ডায়েট প্ল্যান দেখি। ব্যাখ্যা সহ।
যদি এই ডায়েট ফলো করেন, ইনশাআল্লাহ সুস্থ থাকবেন।
মনে রাখবেন, উদ্দেশ্য হল এমন বস্তু খাওয়া, যা পেটে অনেক ক্ষণ থাকবে , ক্ষুধা লাগবেনা, কিন্তু আবার ক্যালরীও কম হবে। আবার তা শরীরের জন্য ক্ষতিকরও হবেনা।
==========
ডায়েটের স্পেশাল কিছু বস্তু আগে দিতে চাই:
=========
ক. ডিম। আগের রিসার্চ বলতো যে ডিমের কুসুম খারাপ, ওতে নাকি কলেস্টেরল থাকে। বর্তমান রিসার্চ বলে ডিমের কুসুম খেলে কোন প্রবলেম নাই। কারণ ওই কলেস্টেরল হল ডায়েটারী কোলেস্টেরল, এলডিএল না, মানুষকে ডিম খাইয়ে টেস্ট করছে, এলডিএল বাড়ে না। কাজেই ডিম সিদ্ধ, কুসুম সহ খেতে অসুবিধা নেই। ইউএস, ইউকে, অসি – সব হেলথ জার্নালে দিনে ২-৩-৪ টা পর্যন্ত ডিম এলাউড বলা আছে।
খ. ভাত বা রুটি। আমরা যেই ভাত-রুটি খাই, সেটা কিন্তু অরিজিনাল না। মিলে ভাঙ্গা রাইস খাই আমরা। নাজিরশাইল-মিনিকেট বা অন্যান্য। ওরা মিলে রাইসের উপরের লাল কভারটা ফেলে রাইস গ্রেইন ( চালের দানা টা) খুব চিকন করে।
কাজেই আসলে আমরা চালের ভিতরের গোড়ার দিকটা খাই। উপরের পেরিমিটার এর অংশটা ফেলে দি। কিন্তু ওর মধ্যে ই আসল জিনিস আছে।
যদি আপনি পুরো ভাত, উপরের লাল কভার সহ খান, যেটা আমাদের বাপ-দাদা-নানা-নানী-দাদী রা খেতো, তাহলে আপনি বেশ কিছু ভিটামিন পাবেন এবং সুগার (স্টার্চ) কন্টেন্ট কম পাবেন ( প্রায় ৩০% কম)। কাজেই আপনি ৩০% বেশী খেলে সেই সুগার কন্টেন্ট পাবেন। আর এটা হজমে দেরী হয়, তাই ক্ষুধা দেরীতে লাগবে।
কাজেই লাল কভারের রাইস বা ব্রাউন রাইস খান। যদি পারেন, না পারলে আর কি হবে? পেটলা হতে দেরী নাই ভাই।
একই কথা আটার ক্ষেত্রেও। লাল আটা হল আসল আটা। ওই আটার রুটি ক্যালরী কম কিন্তু পেটে থাকে।
এগুলো সুপার শপে পাবেন হয়তো বাংলাদেশে। আর সুপার শপ বাদ দিলে, রাইস মিলে গেলেও পাবেন। ওদের বলবেন, যেন ধান পুরো না ভাঙ্গে, লাল অংশটা রেখে আপনাকে দেয়। ওরা খুশী হয়ে দেয়া উচিত, দাম কম হওয়া উচিত। বিভিন্ন রেশনের দোকানে ও পেতে পাবেন । এখনও বাংলাদেশে এভেইল্যাবল। দাম বেশী হবার কথা না।
লাল ভাত-লাল আটা : আমাদের বাপ দাদারা খেয়ে আসছে। খেতে একটু কম স্বাদ হতে পারে, কিন্তু পরে সয়ে যাবে। মনে রাখবেন, সুস্থতা হল আসল।
মিনিকেট নাজির শাইল ১০০ গ্রাম ভাত ১৩০ ক্যালরী, আর ব্রাউন রাইস হলে, ১০০ গ্রামে ১০০ ক্যালরী।
গ. শশা – গাজর : দুইটা চ্রম ফল। ক্যালরী খুব কম। কিন্তু পেটে দিলেই পেট ভরে যায়। মাথায় রাখুন। পেয়ারা, আামড়া, পানি ফল কেও বাদ দিবেন না। যেসব ফল-সবজি মানুষ খেতে চায়না, কমার্শিয়ালী বানায়না, সেগুলো ফরমালীন দেয়না কিন্তু। তাই এগুলা একটু সেইফ বাংলাদেশে।
ঘ. টোস্ট বিস্কুট। ( মিষ্টি গুলো না, নরমাল গুলো )। একটা টোস্ট বিস্কুট মাত্র ৫০ ক্যালরী, কিন্তু শক্ত হওয়ায় অনেক্ষণ পেটে থাকে।
ঙ. বর্জন করতে হবে: গরুর-খাসীর চর্বি, চিংড়ী মাছ। কোলেস্টেরলের মূল উৎস। চিটাগাঙ এর সবাই সমানে গরু খায়, সমানে হার্টের প্রবলেম। তবে গরু-খাসীর পিউর মাংস হলে খাওয়া যাবে। মাংসে সমস্যা না, চর্বিতে সমস্যা। ঝোল খাওয়া যাবেনা, কারণ ঝোলে সয়াবীন তেল আছে। তবে গরুর মাংসে কিন্তু ফাকে ফাকে চর্বি থাকে, কাজেই এভয়েড করাই বেটার। মুরগীর মাংসে সমস্যা নাই। কিন্তু মুরগীর চামড়া+গিলাকলিজা হল পিউর বিষ, কোলেস্টেরলে ভরা।
চ. খুব কমাতে হবে: সয়াবীন তেল। সবাই গরু-খাসীর চর্বির দিকে নজর দেয়। কিন্তু ভুলে যায় তেলের কথা। সয়াবীন তেলের ১৫% ই কিন্তু বাজে কোলেস্টেরল। যদিও উদ্ভিজাত, কিন্তু আসলে এটা খুব খারাপ বডির জন্য। কাজেই প্রতিটা তরকারীতে সয়াবীন তেল দিতে হবে খুব মেপে মেপে। আমার হিসাব হল প্রতি লিটার তরকারীর জন্য মাত্র ৫০ এম এল, এর বেশী দরকার নাই। আমরা ১৫০-২০০ দি , নরমালী , আসতাগফিরুল্লাহ।
যদি মাসে ১ লিটার সয়াবীন খান তার মানে তার থেকে কিন্তু ২৫০ গ্রাম খারাপ কোলেস্টেরল খেয়ে ফেলতেছেন আপনি, চিন্তা করেন।
এটা একটা হিডেন এনিমি। বাংলাদেশী দের জন্য। গরু র চর্বি সম্পূর্ণ বর্জন করে যদি সয়াবীন ইনপুট কমাতে না পারেন, তাহলে কিন্তু কোলেস্টেরল কমাতে পারবেন না।
কাজেই বাহিরে যখনই খাচ্ছেন, ,রেস্তাওরায়, তেলতেলা ঝোল জাস্ট ফেলে দিবেন। সবজি খেতে চাইলেও তেল যথাসম্ভব কম খাবেন। মনে রাখবেন এটা গরুর চর্বি থেকেও ভয়ংকর, কারণ প্রতিদিন খাওয়া হচ্ছে, আস্তে আস্তে কম কম করে ডিপোজিট হয়ে বেশী হয়ে যাবে।
ডিম ভাজি এজন্য খাওয়া ঠিক না, সিদ্ধ খেতে হবে।
আমি ডিম ভাজি করে পানিতে ৩ টা চুবানি দিয়ে তারপরে খাই, সব তেল ফেলে। কারণ আমার দৃষ্টিতে তেল একটা লিকুইড বিষ, গরুর চর্বি থেকেও খারাপ।
বাই দ্য ওয়ে, বাংলাদেশে সয়াবীনের নামে হয়তো পাম তেল বিক্রি হয়, যেটা আরও খারাপ হতে পারে। আর দোকানের খোলা সয়াবীন তেল কিন্তু ১০০% স্যাচুরেটেড ফ্যাট হয়, মানে ১০০% বাজে কোলেস্টেরল ইকু্যইভ্যালেন্ট, ১৫% ফ্যাট হয় যেসব সয়াবীন ব্র্যান্ডের কোম্পানী বেচে, সেগুলার ।