Featured

কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে বাচার ছয়টি উপাই ।

কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে মুক্তি পেতে ৬ অভ্যাস

কোষ্ঠকাঠিন্য একটি বিরক্তিকর ও যন্ত্রণাদায়ক সমস্যা। অনেকের টয়লেটে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কেটে যায়, কিন্তু পেট পরিষ্কার হয় না। এ নিয়ে অস্বস্তিতে ভোগেন তাঁরা। মলত্যাগ যদি সপ্তাহে তিনবারের কম অথবা পরিমাণে খুব কম হয়, অনেকক্ষণ ধরে চেষ্টা করেও মলত্যাগ না হয়, অথবা মল অস্বাভাবিক রকমের শক্ত বা শুকনো হয়, তাহলে তাকে কোষ্ঠকাঠিন্য বলে। বিভিন্ন কারণে এ সমস্যা দেখা দেয়। তবে অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন ও খাদ্যাভ্যাস কোষ্ঠকাঠিন্যের পেছনে প্রধান ভূমিকা পালন করে। তাই এ সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

. প্রতিদিন প্রচুর পানি ও তরল এবং যথেষ্ট আঁশযুক্ত খাবার খান। গোটা শস্য, শাকসবজি, ফলমূল যেমন বেল, পেঁপে ইত্যাদি হলো আঁশযুক্ত খাবার।

. পাশাপাশি দুশ্চিন্তা বা মানসিক চাপমুক্ত জীবনযাপনের চেষ্টা করুন।

. যত দূর সম্ভব মল চেপে না রাখার অভ্যাস করা এবং নিয়মিত ব্যায়াম ও হাঁটাচলার অভ্যাস গড়ে তোলা।

. ইসবগুলের ভুসি, অ্যালোভেরা বা ঘৃতকুমারীর মতো ঘরোয়া টোটকাও কোষ্ঠকাঠিন্যের সমাধানে বেশ কাজে আসে।

প্রতিদিন প্রচুর পানি ও তরল এবং যথেষ্ট আঁশযুক্ত খাবার খান। গোটা শস্য, শাকসবজি, ফলমূল যেমন বেল, পেঁপে ইত্যাদি হলো আঁশযুক্ত খাবার।

. কিছু কিছু ওষুধ কোষ্ঠকাঠিন্যের জন্য দায়ী (যেমন নিয়মিত আইবুপ্রোফেন জাতীয় ব্যথানাশক ওষুধ সেবন, আয়রন বা ক্যালসিয়াম বড়ি)। এসব বিষয় খেয়াল করতে হবে। কফি, পিৎজা, ফাস্ট ফুড বা পাস্তার মতো খাবার এড়িয়ে চলতে হবে। চকলেট, ভাজাপোড়া, লাল মাংস (গরু, খাসি ইত্যাদি), চিপস, প্রচুর চিনিযুক্ত বেকারি খাদ্য যেমন কেক, পেস্ট্রি কেক এবং আয়রন ক্যাপসুল, কাঁচাকলা ইত্যাদি কম খাওয়াই ভালো।

এতেও উপকার না পেলে চিকিৎসকের পরামর্শ মোতাবেক ওষুধ সেবন বা ব্যবহার করা যায়। তবে এগুলো বেশি পরিমাণে বা নিয়মিত সেবন করা অনুচিত। কারণ, এতে মলদ্বারের স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা বাধাপ্রাপ্ত হতে পারে।

জটিলতা

দীর্ঘ মেয়াদে কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে অর্শ বা পাইলস, ফিস্টুলা বা ভগন্দর, অ্যানাল ফিশার বা গেজ রোগ, প্রস্রাবের সমস্যা, রেক্টাল প্রোলাপস বা মলদ্বার বাইরে বের হয়ে আসা, ইন্টেসটাইনাল অবস্ট্রাকশন, পেটব্যথা বা ফাঁপা, অরুচি, ক্ষুধামান্দ্যের মতো জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে। সমস্যার উন্নতি না হলে আক্রান্ত ব্যক্তির থাইরয়েডের সমস্যা, কলোরেক্টাল তথা মলাশয়ের ক্যানসার, ডায়াবেটিক নিউরোপ্যাথি, পার্কিনসনস ডিজিজ, ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোম (আইবিএস), অ্যানাল ফিশার, পেরিঅ্যানাল অ্যাবসেস প্রভৃতি কোনো রোগ আছে কি না, তা পরীক্ষা করা দরকার। আফিম, মরফিন, মানসিক রোগের ওষুধ, ক্যালসিয়াম, আয়রন ও অ্যালুমিনিয়াম এবং ক্যালসিয়ামযুক্ত অ্যান্টাসিড ইত্যাদি কোনো ওষুধ সেবন করছেন কি না, লক্ষ করুন। হঠাৎ কোষ্ঠকাঠিন্য দেখা দিলে অবশ্যই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।

ফিজিওথেরাপি; কি, কেন, কিভাবে ……?

ফিজিওথেরাপি :
ফিজিও (শারিরীক) এবং থেরাপি (চিকিৎসা) শব্দ দুটি মিলে ফিজিওথেরাপি বা শারিরীক চিকিৎসার সৃস্টি। ফিজিওথেরাপি আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের এক অন্যতম এবং অপরিহার্য শাখা। একজন ফিজিওথেরাপি চিকিৎসক স্বাধীনভাবে রোগীর বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যা (প্রধানত বাত-ব্যথা, আঘাত জনিত ব্যথা, প্যারালাইসিস ইত্যাদি) নির্ণয় সহকারে পরিপূর্ন চিকিৎসা সেবা প্রদান করে থাকেন।
ফিজিওথেরাপি’র সূচনা:
ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা নতুন কোন চিকিৎসা পদ্বতি নয়। প্রাচীন গ্রীসে হিপোক্রেটাস ম্যাসেজ ও ম্যানুয়াল থেরাপি দ্বারা ফিজিওথেরাপি চিকিৎসার সূচনা করেছিলেন। খ্রিস্টপূর্ব ৪৬০ সালে হেক্টর ফিজিওথেরাপি চিকিৎসার একটি শাখা ব্যবহার করতেন যাকে বর্তমানে হাইড্রোথেরাপী বলা হয়। তথ্য-উপাত্ত অনুসারে ১৮৯৪ সালে ফিজিওথেরাপি চিকিৎসার বর্তমান ধারা অর্থাৎ ম্যানুয়াল থেরাপি, ম্যানিপুলেটিভ থেরাপি, এঙ্ারসাইজ থেরাপি, হাইড্রোথেরাপি, ইলেক্ট্রোথেরাপি ইত্যাদি প্রবর্তন করা হয়। নিউজিল্যান্ডে ১৯১৩ এবং আমেরিকাতে ১৯১৪ সালে ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা শুরু হয়।
পৃথিবীর বিখ্যাত পোস্ট গ্রাজুয়েশন ম্যানুয়াল থেরাপি কোর্স গুলো হলো :-
১। অর্থোপেডিক্স মেডিসিন সিরাক্স কনসেপ্ট , বেলজিয়াম ।
২। এম ডি টি , স্পাইন (ম্যাকেঞ্জি কনসেপ্ট) , নিউজিল্যান্ড ।
৩। ষ্টোক রিহ্যাবিলিটেশন (বোবাথ কনসেপ্ট ) ইউ,কে।
৪। নিউরো মোবিলাইজেশন (বাটলার অস্ট্রেলিয়া) ।
৫। মলিগ্যান কনসেপ্ট ।
৬। মেইডল্যান্ড কনসেপ্ট ।
বাংলাদেশে ফিজিওথেরাপি:
যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের জন্য ১৯৭২ সালে বিদেশী ফিজিওথেরাপিষ্ট দ্বারা স্বাধীন বাংলাদেশে ফিজিওথেরাপি চিকিৎসার সূচনা হয়। ফিজিওথেরাপী চিকিৎসার গুরুত্ব ও অনুধাবন করে ১৯৭৩ সালে আরআইএইচডি (বর্তমানে নিটোর) ফিজিওথেরাপী চিকিৎসার উপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা অনুষদের (এমবিবিএস ও বিডিএস একই অনুষদের অধিভুক্ত) অধিনে স্মাতক ডিগ্রি চালু করা হয় । বর্তমানে নিটোর, সিআরপি, পিপলস্ ইউনিভার্সিটি, গণবিশ্ববিদ্যালয়, স্টেট্ কলেজ অব হেলথ্ সায়েন্স সহ ৭টি ইনষ্টিটিউটে ফিজিওথেরাপী গ্রাজুয়েশন কোর্স চালু রয়েছে।
কেন এই ফিজিওথেরাপি :
আমরা যদি আমাদের শরীরের বিভিন্ন রোগের কথা চিন্তা করি তাহলে দেখতে পাব যে, শুধুমাত্র ঔষধ সব রোগের পরিপুর্ণ সুস্থতা দিতে পারে না। বিশেষ করে যে সব রোগের উৎস বিভিন্ন মেকানিক্যাল সমস্যা সেসব ক্ষেত্রে ঔষধের ভূমিকা তুলনামূলকভাবে কম। যেমন: বাত – ব্যথা, স্পোর্টস ইনজুরি, হাড় ক্ষয় জনিত রোগ, জয়েন্ট শক্ত হয়ে যাওয়া, স্ট্রোক, প্যারালাইসিস ইত্যাদি। তাহলে এসব রোগ হতে পরিপুর্ণ সুস্থতা লাভের উপায় কি?
মাল্টি ডিসিপ্লিনারি টিম:

বর্তমানে উন্নত বিশ্বে সব ধরনের শারিরীক সমস্যার পরিপূর্ণ সমাধানের লক্ষ্যে চিকিৎসা বিজ্ঞানে এক নতুন ধারার প্রবর্তন হয়েছে। যাকে বলা হয় মাল্টি ডিসিপ্লিনারি টিম। এই টিমে থাকেন সার্জন, মেডিসিন স্পেশালিষ্ট, জেনারেল ফিজিশিয়ান, ফিজিওথেরাপিষ্ট, অকুপেশনাল থেরাপিষ্ট, নার্স, সোশ্যাল ওয়ার্কার। রোগীর শারিরীক সমস্যা দুর করে কার্যক্ষমতা ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে ফিজিওথেরাপিষ্টের ভূমিকা অপরিসীম।
ফিজিওথেরাপিষ্ট কে :
ফিজিওথেরাপিতে শুধুমাত্র ব্যাচেলর অথবা পোষ্ট গ্রাজুয়েশন ডিগ্রিধারীকেই ফিজিওথেরাপিষ্ট বলা যাবে। বর্তমানে আমাদের দেশে বিভিন্ন মানের ফিজিওথেরাপিষ্ট আছেন।
কোয়ালিফাইড ফিজিওথেরাপিষ্ট :
যিনি কমপক্ষে ফিজিওথেরাপি ব্যচেলর ডিগ্রি (৪ বছর কোর্স + ১ বছর ইর্ন্টানশীপ সম্পন্ন) নিয়েছেন। একজন কোয়ালিফাইড ফিজিওথেরাপিষ্ট রোগীর রোগ নির্ণয় সহকারে চিকিৎসা সেবা দিতে পারবেন।
ডিপ্লোমা ফিজিওথেরাপি টেকনোলজিষ্ট ।
যিনি ফিজিওথেরাপি ডিপ্লোমা (৩ বছর কোর্স ) ডিগ্রি নিয়েছেন। একজন কোয়ালিফাইড ফিজিওথেরাপিষ্টের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা সেবা দিতে পারবেন।
ফিজিওথেরাপি এসিস্ট্যান্ট
যিনি এসিস্ট্যান্ট ফিজিওথেরাপি (১বছর) কোর্স করেছেন। একজন কোয়ালিফাইড ফিজিওথেরাপিষ্টের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা সেবায় সহায়ককারী হিসেবে কাজ করতে পারবেন।
*এছাড়াও অন্যান্য কিছু চিকিৎসক ফিজিথেরাপী চিকিৎসার কিছু পরামর্শ দেয়ার চেষ্টা করে থাকেন। এক্ষেত্রে কোয়ালিফাইড ফিজিওথেরাপিষ্ট হতে চিকিৎসা ও পরামর্শ নেয়াই উত্তম।
যে সব ক্ষেত্রে ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা অত্যাবশ্যক:
 বাত-ব্যথা
 কোমড় ব্যথা (বিনা অপারেশনে মেরুদণ্ডের ডিস্কের চিকিৎসা)
 ঘাড় ব্যথা
 হাঁটু অথবা গোড়ালীর ব্যথা
 আঘাত জনিত ব্যথা
 হাড় ক্ষয় জনিত রোগ
 জয়েন্ট শক্ত হয়ে যাওয়া
 স্ট্রোক
 প্যারালাইসিস জনিত সমস্যায়
 মুখ বেঁকে যাওয়া বা ফেসিয়াল পালসি
 বিভিন্ন ধরনের অপারেশন পরবর্তী সমস্যায়
 আইসিইউ (ওঈট) তে অবস্থানকারী রোগীর জন্য
 পা বাঁকা (ক্লাবফিট)
 গাইনোকলজিক্যাল সমস্যায়
 সেরিব্রাল পলসি (প্রতিবন্ধী শিশু)
 বার্ধক্যজনিত সমস্যা ইত্যাদি চিকিৎসার ক্ষেত্রে ও পুনর্বাসন সেবায় ফিজিওথেরাপির ভূমিকা অপরিসীম।
ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা পদ্ধতি:
একজন ফিজিওথেরাপিষ্ট রোগীর রোগ বর্ণনা, ফিজিক্যাল টেষ্ট, ফিজিওথেরাপিউটিক স্পেশাল টেষ্ট, প্রয়োজন সাপেক্ষে বিভিন্ন রেডিওলজিক্যাল টেষ্ট এবং প্যাথলজিক্যাল টেষ্ট এর মাধ্যমে রোগ নির্ণয় বা ডায়াগ্নোসিস করে থাকেন। অত:পর রোগীর সমস্যানুযায়ী চিকিৎসার পরিকল্পনা অথবা ট্রিটমেন্ট প্লান করেন এবং সেই অনুযায়ী নিন্মোক্ত পদ্ধতিতে ফিজিওথেরাপি সেবা প্রদান করে থাকেন।
-ম্যানুয়াল থেরাপি
-ম্যানিপুলেটিভ থেরাপি
-মোবিলাইজেশন
-মুভমেন্ট উইথ মোবিলাইজেশন
-থেরাপিউটিক এঙ্ারসাইজ
-ইনফিলট্রেশন বা জয়েণ্ট ইনজেকশন
-পশ্চারাল এডুকেশন
-আরগোনমিক্যাল কনসালটেন্সী
-হাইড্রোথেরাপি
-ইলেকট্রোথেরাপি বা অত্যাধুনিক মেশিনের সাহায্যে চিকিৎসা (যেমন: SWD, MWD ,TENS, IRR, Traction ইত্যাদি)। তবে ফিজিওথেরাপি চিকিৎসাতে মেশিনের ব্যবহার খুবই নগন্য।
-কিছু কিছু ক্ষেত্রে ড্রাগ্স বা ঔষধ
কোথায় ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা সেবা পাওয়া যাবে:
বাংলাদেশে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৯০ হাজার মানুষ ফিজিওথেরাপি চিকিৎসার উপর নির্ভরশীল। কিন্তু এর মধ্যে শতকরা প্রায় ৯০ ভাগ সঠিক ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা পায়না ।
পূনশ্চ:
ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা একটি বিজ্ঞানসম্মত ও সুপ্রতিষ্ঠিত চিকিৎসা পদ্ধতি যা আর্ন্ত্মজাতিকভাবে সুপরিচিত। আমাদের দেশসহ বিভিন্ন দেশে ফিজিওথেরাপিষ্টগণ ফার্স্ট কন্ট্যাক প্রাকটিশনার হিসেবে চিকিৎসা সেবা দিয়ে আসছেন। তবে আমারদের দেশে এই চিকিৎসা সেবাটি বিভিন্ন মহলের অপপ্রচার (ব্যায়াম ও স্যাক) ও অপব্যবহার (কোয়ালিফাইড ফিজিওথেরাপিষ্ট ছাড়া অন্য কোন চিকিৎসক কর্র্তৃক ফিজিওথেরাপি পরামর্শ দেয়া) এর কারনে সাধারণ মানুষ সঠিক চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
তাই আপনার ফিজিওথেরাপি চিকিৎসার পরামর্শ যে চিকিৎসকই করুক না কেন , অবশ্যই বিশেষজ্ঞ ফিজিওথেরাপিষ্টের নিকট ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা গ্রহন করুন ।

বিখ্যাত পুষ্টিবিদ, ডায়েটিশিয়ান, শরীরতত্ত্ব বিশেষজ্ঞ, ইঞ্জিনিয়ার M. Rezaul Karim Bhuyan এর খুবই খুবই গুরুত্বপূর্ণ নসিহাঃ

কি খাবেন, কি খাবেন না, কেন খাবেন, কেন খাবেন না!

আসলে আমরা সবাই বেশী খাবার জন্য হার্ট-কিডনী ড্যামেজ হয়ে মারা যাচ্ছি। আমরা আসলে বেশী খাই। বাইপ্রডাক্ট হিসেবে আল্লাহ হয়তো আমাদের ভুড়ি দান করেন। ভুড়ির থেকেও বড় কথা হল, আমাদের অর্গানগুলো কিন্তু ধীরে ধীরে নষ্ট হচ্ছে বেশী খাবার জন্য। আমরা কিন্তু দিন দিন অসুস্থ হচ্ছি, এফিশিয়েন্সী কমতেছে। কাজেই আসেন সিরিয়াস হই, খাবার কন্ট্রোল করেই সুস্থ থাকি, জাস্ট বাচ্চাদের মতন সুস্থ হয়ে যাই।

বাই দ্য ওয়ে, মেদ ভুড়ি না হয়েও কিন্তু আপনি অসুস্থ হয়ে যাচ্ছেন, যদি ফুড মেইন্টেইন না করেন। সিক্স প্যাক নিয়েও হার্ট ব্লক হচ্ছে অনেকের, ডায়াবেটিস হচ্ছে, কিডনী নষ্ট হচ্ছে। কাজেই চিন্তার ব্যাপার আছে কিন্তু। মেদ ভুড়িই শেষ কথা না। সুস্থতা হল শেষ কথা।

সুতরাং আমাদের একটা ব্যালেন্সড ডায়েট মেইন্টেইন করতে হবে, সারাজীবন।
=========

সাধারণ ভাবে যদি ক্যালরী হিসাব করে খান, তাহলে আপনি কিছুটা সেইফ।
এখন এক্সাক্টলী হিসেব করে খেতে জাতি পারবেনা, কাজেই আনুমানিক কিছু হিসাব দিচ্ছি, একটা ব্যালান্সড ডায়েট করে। আসুন ডায়েট প্ল্যান দেখি। ব্যাখ্যা সহ।
যদি এই ডায়েট ফলো করেন, ইনশাআল্লাহ সুস্থ থাকবেন।

মনে রাখবেন, উদ্দেশ্য হল এমন বস্তু খাওয়া, যা পেটে অনেক ক্ষণ থাকবে , ক্ষুধা লাগবেনা, কিন্তু আবার ক্যালরীও কম হবে। আবার তা শরীরের জন্য ক্ষতিকরও হবেনা।

==========
ডায়েটের স্পেশাল কিছু বস্তু আগে দিতে চাই:
=========

ক. ডিম। আগের রিসার্চ বলতো যে ডিমের কুসুম খারাপ, ওতে নাকি কলেস্টেরল থাকে। বর্তমান রিসার্চ বলে ডিমের কুসুম খেলে কোন প্রবলেম নাই। কারণ ওই কলেস্টেরল হল ডায়েটারী কোলেস্টেরল, এলডিএল না, মানুষকে ডিম খাইয়ে টেস্ট করছে, এলডিএল বাড়ে না। কাজেই ডিম সিদ্ধ, কুসুম সহ খেতে অসুবিধা নেই। ইউএস, ইউকে, অসি – সব হেলথ জার্নালে দিনে ২-৩-৪ টা পর্যন্ত ডিম এলাউড বলা আছে।

খ. ভাত বা রুটি। আমরা যেই ভাত-রুটি খাই, সেটা কিন্তু অরিজিনাল না। মিলে ভাঙ্গা রাইস খাই আমরা। নাজিরশাইল-মিনিকেট বা অন্যান্য। ওরা মিলে রাইসের উপরের লাল কভারটা ফেলে রাইস গ্রেইন ( চালের দানা টা) খুব চিকন করে।

কাজেই আসলে আমরা চালের ভিতরের গোড়ার দিকটা খাই। উপরের পেরিমিটার এর অংশটা ফেলে দি। কিন্তু ওর মধ্যে ই আসল জিনিস আছে।

যদি আপনি পুরো ভাত, উপরের লাল কভার সহ খান, যেটা আমাদের বাপ-দাদা-নানা-নানী-দাদী রা খেতো, তাহলে আপনি বেশ কিছু ভিটামিন পাবেন এবং সুগার (স্টার্চ) কন্টেন্ট কম পাবেন ( প্রায় ৩০% কম)। কাজেই আপনি ৩০% বেশী খেলে সেই সুগার কন্টেন্ট পাবেন। আর এটা হজমে দেরী হয়, তাই ক্ষুধা দেরীতে লাগবে।

কাজেই লাল কভারের রাইস বা ব্রাউন রাইস খান। যদি পারেন, না পারলে আর কি হবে? পেটলা হতে দেরী নাই ভাই।

একই কথা আটার ক্ষেত্রেও। লাল আটা হল আসল আটা। ওই আটার রুটি ক্যালরী কম কিন্তু পেটে থাকে।

এগুলো সুপার শপে পাবেন হয়তো বাংলাদেশে। আর সুপার শপ বাদ দিলে, রাইস মিলে গেলেও পাবেন। ওদের বলবেন, যেন ধান পুরো না ভাঙ্গে, লাল অংশটা রেখে আপনাকে দেয়। ওরা খুশী হয়ে দেয়া উচিত, দাম কম হওয়া উচিত। বিভিন্ন রেশনের দোকানে ও পেতে পাবেন । এখনও বাংলাদেশে এভেইল্যাবল। দাম বেশী হবার কথা না।

লাল ভাত-লাল আটা : আমাদের বাপ দাদারা খেয়ে আসছে। খেতে একটু কম স্বাদ হতে পারে, কিন্তু পরে সয়ে যাবে। মনে রাখবেন, সুস্থতা হল আসল।

মিনিকেট নাজির শাইল ১০০ গ্রাম ভাত ১৩০ ক্যালরী, আর ব্রাউন রাইস হলে, ১০০ গ্রামে ১০০ ক্যালরী।

গ. শশা – গাজর : দুইটা চ্রম ফল। ক্যালরী খুব কম। কিন্তু পেটে দিলেই পেট ভরে যায়। মাথায় রাখুন। পেয়ারা, আামড়া, পানি ফল কেও বাদ দিবেন না। যেসব ফল-সবজি মানুষ খেতে চায়না, কমার্শিয়ালী বানায়না, সেগুলো ফরমালীন দেয়না কিন্তু। তাই এগুলা একটু সেইফ বাংলাদেশে।

ঘ. টোস্ট বিস্কুট। ( মিষ্টি গুলো না, নরমাল গুলো )। একটা টোস্ট বিস্কুট মাত্র ৫০ ক্যালরী, কিন্তু শক্ত হওয়ায় অনেক্ষণ পেটে থাকে।

ঙ. বর্জন করতে হবে: গরুর-খাসীর চর্বি, চিংড়ী মাছ। কোলেস্টেরলের মূল উৎস। চিটাগাঙ এর সবাই সমানে গরু খায়, সমানে হার্টের প্রবলেম। তবে গরু-খাসীর পিউর মাংস হলে খাওয়া যাবে। মাংসে সমস্যা না, চর্বিতে সমস্যা। ঝোল খাওয়া যাবেনা, কারণ ঝোলে সয়াবীন তেল আছে। তবে গরুর মাংসে কিন্তু ফাকে ফাকে চর্বি থাকে, কাজেই এভয়েড করাই বেটার। মুরগীর মাংসে সমস্যা নাই। কিন্তু মুরগীর চামড়া+গিলাকলিজা হল পিউর বিষ, কোলেস্টেরলে ভরা।

চ. খুব কমাতে হবে: সয়াবীন তেল। সবাই গরু-খাসীর চর্বির দিকে নজর দেয়। কিন্তু ভুলে যায় তেলের কথা। সয়াবীন তেলের ১৫% ই কিন্তু বাজে কোলেস্টেরল। যদিও উদ্ভিজাত, কিন্তু আসলে এটা খুব খারাপ বডির জন্য। কাজেই প্রতিটা তরকারীতে সয়াবীন তেল দিতে হবে খুব মেপে মেপে। আমার হিসাব হল প্রতি লিটার তরকারীর জন্য মাত্র ৫০ এম এল, এর বেশী দরকার নাই। আমরা ১৫০-২০০ দি , নরমালী , আসতাগফিরুল্লাহ।

যদি মাসে ১ লিটার সয়াবীন খান তার মানে তার থেকে কিন্তু ২৫০ গ্রাম খারাপ কোলেস্টেরল খেয়ে ফেলতেছেন আপনি, চিন্তা করেন।
এটা একটা হিডেন এনিমি। বাংলাদেশী দের জন্য। গরু র চর্বি সম্পূর্ণ বর্জন করে যদি সয়াবীন ইনপুট কমাতে না পারেন, তাহলে কিন্তু কোলেস্টেরল কমাতে পারবেন না।

কাজেই বাহিরে যখনই খাচ্ছেন, ,রেস্তাওরায়, তেলতেলা ঝোল জাস্ট ফেলে দিবেন। সবজি খেতে চাইলেও তেল যথাসম্ভব কম খাবেন। মনে রাখবেন এটা গরুর চর্বি থেকেও ভয়ংকর, কারণ প্রতিদিন খাওয়া হচ্ছে, আস্তে আস্তে কম কম করে ডিপোজিট হয়ে বেশী হয়ে যাবে।
ডিম ভাজি এজন্য খাওয়া ঠিক না, সিদ্ধ খেতে হবে।

আমি ডিম ভাজি করে পানিতে ৩ টা চুবানি দিয়ে তারপরে খাই, সব তেল ফেলে। কারণ আমার দৃষ্টিতে তেল একটা লিকুইড বিষ, গরুর চর্বি থেকেও খারাপ।

বাই দ্য ওয়ে, বাংলাদেশে সয়াবীনের নামে হয়তো পাম তেল বিক্রি হয়, যেটা আরও খারাপ হতে পারে। আর দোকানের খোলা সয়াবীন তেল কিন্তু ১০০% স্যাচুরেটেড ফ্যাট হয়, মানে ১০০% বাজে কোলেস্টেরল ইকু্যইভ্যালেন্ট, ১৫% ফ্যাট হয় যেসব সয়াবীন ব্র্যান্ডের কোম্পানী বেচে, সেগুলার ।

আর্থ্রাইটিস কোমর, হাঁটু ও হাতে ব্যথাঃ

#আর্থ্রাইটিস কোমর, হাঁটু ও হাতে ব্যথাঃ
যেকোনো বয়সের পুরুষ কিংবা মহিলা- যে কারো হতে পারে আর্থ্রাইটিস বা গ্রন্থিবাত বা সন্ধিপ্রবাহ। প্রতি পাঁচজনে একজন লোকের আর্থ্রাইটিস থাকে। এটি নির্দিষ্ট একটি রোগ নয়- অস্থিসন্ধি, অস্থিসন্ধির পাশের মাংসপেশি, টেনডন ইত্যাদির অনেকগুলো অসুখকে একসঙ্গে আর্থ্রাইটিস বলে। সবচেয়ে বেশি মানুষ অস্টিওআর্থ্রাইটিস ও রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস সমস্যায় ভুগে । সাধারণত অস্টিওআর্থ্রাইটিসের কারণে কোমর, হাঁটু ও হাতে ব্যথা হয়।
রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিসে হাতের কবজিসহ শরীরের অন্যান্য অংশে ব্যথা বেশি হয়, তুলনামূলকভাবে অস্থিসন্ধিতে ব্যথা কম হয়। অস্টিওআর্থ্রাইটিস অস্টিওআর্থ্রাইটিস ধীরে ধীরে হয়। প্রাথমিক লক্ষণ হল- শারীরিক পরিশ্রম ও ব্যায়াম করলে অস্থিসন্ধিতে ব্যথা হয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে হঠাৎ বিনা কারণে অস্থিসন্ধিতে ব্যথা হয়, এক বা একাধিক অস্থিসন্ধি ফুলে যায় ও ব্যথা করে, অস্থিসন্ধির জড়তা বা স্টিফনেস দেখা দেয়- বিশেষ করে ঘুম থেকে ওঠার পর অথবা দীর্ঘসময় বসে থেকে ওঠার সময় এ সমস্যা হয়।
ব্যায়াম ও শারীরিক পরিশ্রমের পর অস্থিসন্ধিতে তীব্র ব্যথা হয়, অস্থিসন্ধিতে কড়মড় শব্দ হয়। অস্টিওআর্থ্রাইটিস বেশি হয় হাঁটুর জয়েন্টে- উঁচু কোথাও উঠতে গেলে হাঁটুতে বেশি চাপ লাগে। হাতে ভারী বোঝা বহন করা কষ্টকর হয় এবং হাঁটু ফুলে যায়। কোমরে হলে নড়াচড়া করা কঠিন হয়- ব্যথা কোমরের সঙ্গে সঙ্গে কুঁচকি, উরু এমনকি হাঁটুতেও হতে পারে।
হাতের মধ্যে বৃদ্ধাঙুলে বেশি হয়- এসময় আঙুলে ব্যথা হয়, ফুলে যায়, ঝিমঝিম করে এবং জয়েন্টের আশপাশে গোটার মতো গুটি হয়। মেরুদণ্ডে হলে ঘাড় ও কোমরে উভয় স্থানে ব্যথা হতে পারে। কখনো কখনো হাত-পা ঝিমঝিম করে।
যাদের ঝুঁকি বেশি
বয়স : বয়স ৬৫-র বেশি হলে অস্টিওআর্থ্রাইটিস হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। তবে যেকোনো বয়সেও হতে পারে।
লিঙ্গ : বয়স ৪৫-এর আগে ছেলেদের বেশি হয়, ৪৫-এর পরে মেয়েদের বেশি হয়।
আঘাত : অস্থিসন্ধিতে যেকোনো ধরনের আঘাত পেলে অস্টিওআর্থ্রাইটিসের ঝুঁকি বাড়ে। এ কারণে যারা পেশাগত কারণে শারীরিক পরিশ্রম বেশি করেন বা আঘাতের ঝুঁকিতে থাকেন, যেমন খেলোয়াড়, তাদের এ রোগ বেশি হয়। বেশি
ওজন : শরীরের ওজন যাদের বেশি অস্টিওআর্থ্রাইটিস তাদের বেশি হয়। সাধারণ স্থূল শরীরের মানুষের হাঁটুতে রোগটি বেশি দেখা দেয়।
বংশগত : কিছু ক্ষেত্রে বংশগত কারণেও অস্টিওআর্থ্রাইটিস হতে দেখা যায়। রোগ নির্ণয় রোগের ইতিহাস ও রোগের ধরন দেখে রোগ নির্ণয় করা হয়। কিছু ক্ষেত্রে আরো কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রয়োজন হয়। যেমন এক্স-রে, জয়েন্ট অ্যাসপিরেশন ইত্যাদি।
রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস এটি এক ধরনের অটোইমিউন অসুখ। এতে শরীরের নিজস্ব রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতার কারণেই আপনাআপনি কিছু টিস্যু ক্ষতিগ্রস্ত হয়, অস্থিসন্ধির বহিরাবরণীতে (সাইনোভিয়াম) প্রদাহ হয়। এ কারণে অস্থিসন্ধি ও এর আশপাশে ব্যথা হয়, জড়তা তৈরি হয়, ফুলে যায়, লাল হয়ে যায় এবং শরীরে জ্বরজ্বর অনুভূতি হয়। এতে অস্থিসন্ধির আকারের বিকৃতিও ঘটে। এটি যত দিন যায় আরো তীব্র হতে থাকে। মাঝেমধ্যে ব্যথা ও ফোলা আপনিতেই কমে যায়, আবার বাড়ে। অস্থিসন্ধি ছাড়াও রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিসে ক্ষতিগ্রস্ত হতে দেখা যায় চোখ, ফুসফুস ও হার্ট। লক্ষণ রোগটি দীর্ঘমেয়াদি বা ক্রনিক। তাই কখনো কখনো লক্ষণ প্রকাশ পায়, আবার কিছুদিন কোনো লক্ষণই থাকে না। সাধারণত লক্ষণ হিসেবে থাকে- * ঘুম থেকে ওঠার পর প্রায় এক ঘণ্টা বা এর চেয়ে বেশি সময় অস্থিসন্ধিসহ শরীরের কিছু অংশে ব্যথা ও জড়তা (স্টিফনেস) থাকে। * হাতের আঙুল, কনুই, কাঁধ, হাঁটু, গোড়ালি ও পায়ের পাতায় বেশি সমস্যা হয়। * সাধারণত শরীরের উভয় পাশ একসঙ্গে আক্রান্ত হয়। যেমন- হাতে হলে দুই হাতের জয়েন্টই একসঙ্গে ব্যথা করে, ফুলে যায় ইত্যাদি। * শরীর দুর্বল লাগে, জ্বরজ্বর অনুভূতি হয়। ম্যাজম্যাজ করে। * কারো কারো ক্ষেত্রে ত্বকের নিচে এক ধরনের গুটি দেখা যায়, যা ধরলে ব্যথা পাওয়া যায় না। কারণ রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিসের মূল কারণ এখনো অজানা। তবে গবেষকরা দেখেছেন, কিছু ফ্যাক্টর থাকলে রোগাক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে। যেমন- বংশগত কারণ। যাদের বংশে রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিসের ইতিহাস আছে, তাদের রোগটি বেশি হতে দেখা যায়। পরিবেশগত কারণেও রোগটি হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। এ ধরনের কারণের মধ্যে আছে ইনফেকশন। রোগ নির্ণয় একই সঙ্গে অনেকগুলো অস্থিসন্ধিতে, শরীরের ডান ও বাঁ পাশে একই সঙ্গে হলে প্রাথমিকভাবে ধরে নেওয়া হয়, রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস হয়েছে। এটি নিশ্চিত করতে আরো কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রয়োজন হয়। এর মধ্যে আছে রক্তের পরীক্ষা। ৭০-৯০ শতাংশ রোগীর রক্তে রিউমাটয়েড অ্যান্টিবডির উপস্থিতি লক্ষ করা যায়। বাকি ১০-৩০ শতাংশের ক্ষেত্রে রক্তে অ্যান্টিবডি থাকে না। রক্তের আরেকটি পরীক্ষা, ইরাথ্রোসাইট সেডিমেন্টেশন রেটও মাঝেমধ্যে করার প্রয়োজন হতে পারে। এ ছাড়া এক্স-রেও লাগে।

#টেনিস_এলবোঃ_লক্ষণ_ও_প্রতিকার ঃ

#টেনিস_এলবোঃ_লক্ষণ_ও_প্রতিকার ঃ

টেনিস এলবো এটি কুনুই ব্যাথার অন্যতম কারন, টেনিস খেলোয়াড়দের এই সমস্যা বেশী দেখা দেয় বলে একে টেনিস এলবো বলা হয়। মেডিকেল পরিভাষায় এটাকে ল্যাটারাল ইপিকন্ডালাইটিস বলে।

আর্থ্রাইটিস সমস্যার মধ্যে অন্যতম হলো টেনিস এলবো ও কনুই ব্যথা। টেনিস এলবো একটি ইনজুরি জাতীয় হাতের সমস্যা। টেনিস খেলোয়াড়দের এ সমস্যা বেশি দেখা দেয় বলে একে টেনিস এলবো বলা হয়। এ জাতীয় সমস্যা অন্য খেলোয়াড়দেরও হতে পারে। ক্রিকেট, গলফ, ব্যাডমিন্টন, ভলিবল, তীর নিক্ষেপ ইত্যাদি খেলায়ও ভুল টেকনিকের কারণে এ সমস্যা দেখা দিতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে এ সমস্যার কারণে খেলোয়াড়দের দীর্ঘদিন খেলার বাইরে থাকতে হয়। তা ছাড়া সাংবাদিক, শিক্ষক, ছাত্র, গৃহিণী, মিস্ত্রি, শ্রমিক, যাদের হাতের কাজ বেশি করতে হয় তাদেরও এ সমস্যা দেখা দিতে পারে । সমস্যার শুরুতে

হাতের কনুইয়ের বাইরের দিকে ব্যথা অনুভব হয়, হাতের নড়াচড়া বা কাজকর্মে ব্যথা তীব্র থেকে তীব্রতর হতে পারে, ব্যথা কনুই থেকে শুরু হয়ে হাতের বাইরের পাশ দিয়ে আঙ্গুল পর্যন্ত যেতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে রোগী জোড়ার ভিতর ব্যথা অনুভব করে, কনুইয়ের বাইরের দিকে চাপ দিলে প্রচণ্ড ব্যথা অনুভব করে, দীর্ঘদিন এভাবে চলতে থাকলে হাতের মাংসপেশির শক্তি ও হাতের কর্মক্ষমতা কমে আসে।

অনেক ক্ষেত্রে এ সমস্যার কারনে খেলোয়াড়দের দীর্ঘদিন খেলার বাহিরে থাকতে হয়। যেমন বিশ্বসেরা ক্রিকেটার শচীন টেন্ডুলকার এই রোগে বেশী আক্রান্ত থাকতেন।

লক্ষণসমুহ:
১. হাতের কনুইয়ে ব্যথা অনুভব হয় ,
২. হাতের নড়াচাড়া বা কাজকর্মে ব্যথা বেড়ে যায়,
৩. ব্যথা কনুই থেকে শুরু হয়ে হাতের আঙ্গুল পর্যন্ত যেতে পারে,
৪. অনেক ক্ষেত্রে রোগী কনুইয়ের জোড়ার ভিতর ব্যথা অনুভব করে,
৫.কনুইয়ের বাহিরের দিকে চাপ দিলে প্রচন্ড ব্যথা অনুভব করে।

দীর্ঘদিন এই অসুখে ভূগলে হাতের মাংপেশীর শক্তি ও হাতের কর্মক্ষমতা কমে আসে, যার ফলে হাত দুর্বল হয়ে যায়। সাধারণত এই রোগ নিরণয়ে কোন পরীক্ষা করার প্রয়োজন হয় না,একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ক্লিনিক্যালি এই রোগ নিরণয় করতে পারেন ।

★টাক কি ? আমরা অনেকেই জানিনা ।

★টাক কি ?
টাক বলতে প্রধানত যেটা বোঝানো হয় সেটা এন্ড্রো জেনেটিক অ্যালোপেসিয়া।
.
দায়ী:
★ কিছুটা পুরুষ হরমোন
★ কিছুটা বংশগতি
.
ঘটনা কি ঘটে ?
শুরুটা কুড়ি থেকে ত্রিশ এর মধ্যেই। প্যাটার্ন টা হল প্রথমে মাথার সামনের দুপাশের চুল পাতলা হতে থাকে। অনেকটা ইংরেজির এম (M) আকৃতির। তারপর মাথার পিছনের অক্সিপিটাল অঞ্চলের পালা। বেশ কিছু পর্যায় পেরিয়ে মাথার ফাঁকা অংশ বড় হতে থাকা।তখন শুধু দিনগুলা আর নিজের অল্প বয়সের ছবির দিকে চেয়ে বুক খালি করা দীর্ঘশ্বাস ফেলা।
.
মেয়েদের কি টাক হয় ?
মেয়েদেরও হতে পারে, বিশেষ করে রজঃনিবৃত্তির পর পুরুষ হরমোন- স্ত্রী হরমোনের ভারসাম্যের অভাবে বাড়তে পারে সমস্যা।
.
টাক হওয়ার কারণ কি ?
চুল পড়ার অনেকগুলো কারণ আছে, যেমন:
.
★হাইপোথাইরয়েড
★কোন ক্রনিক অসুখ
★ টাইফয়েড, ম্যালেরিয়া জাতীয় জ্বরের পরে
★দুর্ঘটনা
★অস্ত্রোপচার
★ খুশকির সমস্যা
★ পানির সমস্যা
★এয়ার পলিউশন
★ মানহীন শ্যাম্পু ব্যবহার
★মানহীন মাথার তেল ব্যবহার
★ মাথার ত্বকের কোন চর্মরোগ
★ ফাংগাল
★ পুষ্টিহীনতা
★ভিটামিনের অভাব
★ ক্রাশ ডায়েট করে স্লিম হতে গিয়েও চুলের সর্বনাশ করেন অনেক কিছুর তরুণী। এজাতীয় চুল পড়াকে বলে টেলোজেন ইফ্লুভিয়াম । অর্থাৎ কেশ মূল ফলিকলগুলো হঠাৎ নিষ্ক্রিয় বা এলো যে অবস্থায় পৌঁছতে শুরু করে , যার পরিণতি চুল ঝরে যাওয়া।
★ ক্যান্সারের ওষুধ থেকে চুল পড়ে যেতে পারে।
★ থাইরয়েড বা কিডনির সমস্যার কারণে চুল পড়ে যেতে পারে।
★ রক্ত স্বল্পতার জন্য চুল পড়ে যেতে পারে।
★ এমনকি অতিরিক্ত মানসিক চাপের কারণে চুল পড়তে পারে।
এছাড়া আরো অনেকগুলো কারণ আছে।
.
স্বাভাবিক ভাবে প্রতিদিন কতটি চুল পড়তে পারে ?
রোজ ৬০ থেকে ১০০ কি চুল পড়ে, আবার সমপরিমাণ চুল গজায়। এটাই নিয়ম। এর থেকে বেশি চুল পড়া সমস্যার শুরু।
.
চিকিৎসা:
কারন সহ চিকিৎসাটা একেবারে প্রাথমিক অবস্থায় শুরু হলেই ভালো, সারিয়ে দেওয়া না গেলেও কয়েক বছর পিছিয়ে দেওয়া যায় টাক পড়া।
.
হিজামা কাপিং থেরাপি মাধ্যমে চুল পড়া রোধ করা ও নতুন চুল গজানোর জন্য অনেক বিজ্ঞাপন দেখা যাচ্ছে এখন

হিজামা /কাপিং থেরাপি এর মাধ্যমে চুল পড়ার জন্য অনেক ক্ষেত্রে ভালো রেজাল্ট পাওয়া যায় , কিন্তু তা সব ক্ষেত্রে নয়।
এখানেও কারণ খুঁজে চিকিৎসা করতে হয়, না হয় সাময়িক একটু ভালো লাগলেও পরবর্তীতে আবার সমস্যা শুরু হয়। আর হিজামা করলে সকল টাকে যে চুল গজাবেই বিষয়টি এমন না।
.
চুলের গোড়ায় অক্সিজেনযুক্ত রক্ত ও পুষ্টি সরবরাহ বাড়িয়ে দেওয়া যায় হিজামার মাধ্যমে। ফলে কিছু কিছু ক্ষেত্রে প্রথম অবস্থায় চুল পড়া বন্ধ হয়ে যায়। এমনকি কোনো কোনো ক্ষেত্রে নতুন চুল গজায়। চুল পড়া বন্ধের জন্য চমৎকার কাজ করে হিজামা।
.
তাই চুল পড়া বন্ধের জন্য যার কাছ থেকে হিজামা/ কাপিং থেরাপি নিবেন আগে দেখুন তিনি একজন চিকিৎসক কিনা।চিকিৎসক না হলে সঠিক কারণ নির্ণয় করে সঠিক চিকিৎসা করাটা সম্ভব নয়।
.
কিছু কিছু টাকের ক্ষেত্রে কখনোই চুল গজাবে না ও চুল পড়া বন্ধ হবে না। তাই , হিজামা করলেই যে সকল ধরনের টাক ডেকে যাবে বিষয়টি এমন না।
.
কথায় বলে বিজ্ঞাপনের গরু গাছে উঠে , তাই হিজামার মাধ্যমে সব টাকে চুল গজাবে এ বিজ্ঞাপনে প্রলুব্ধ না হয়, জেনে-বুঝে একজন চিকিৎসকের মাধ্যমে হিজামা করুন, তাহলে উপকৃত হবেন।

নিম পাতার ৭টি জাদুকরী উপকারিতা।


*নিম পাতার ৭টি জাদুকরী উপকারিতা।

*নিম একটি ঔষধি গাছ যার ডাল, পাতা, রস সবই কাজে লাগে। নিম একটি বহুবর্ষজীবী ও চিরহরিৎ বৃক্ষ। বাংলাদেশসহ ভারতীয় উপমহাদেশে ঔষধি গাছ হিসেবে নিমের ব্যবহার হয়ে আসছে গত ৫ হাজার বছর ধরে। প্রকৃতি কী করে একই সঙ্গে সমস্যা এবং সমাধান ধারণ করে রেখেছে তার উৎকৃষ্ট উদাহরণ নিম। নিমের আছে ১৩০টি ঔষধি গুণ। ভাইরাস এবং ব্যাকটেরিয়া নাশক হিসেবে নিম খুবই কার্যকর। আর রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতেও এর জুড়ি মেলা ভার। আসুন জেনে নেওয়া যাক নিমের বিস্ময়কর উপকারিতাগুলো।

১. ক্ষত সারায় নিম পাতা বেটে পেস্ট বানিয়ে আঘাতজনিত ক্ষত বা কীটপতঙ্গের কামড়ে সৃষ্ট ক্ষততে প্রতিদিন কয়েকবার করে লাগালে তা দ্রুত সেরে যায়।

২. খুশকি তাড়ায় পরিমাণ মতো পানি ও নিম পাতা নিয়ে সেদ্ধ করুন। যতক্ষণ না পানিটা নীল হচ্ছে। এরপর তা ঠাণ্ডা করে রাখুন। গোসলের সময় চুল শ্যাম্পু দিয়ে ধোয়ার পর এই পানি দিয়ে মাথা পরিষ্কার করুন।

৩. চোখের সমস্যা দূর করে কিছু নিম পাতা সেদ্ধ করার পর পানিটুকু ছেঁকে পুরোপুরি ঠাণ্ডা করে নিন। এরপর সেই পানি দিয়ে চোখ ধুয়ে নিন। এতে চোখের যেকোনো ধরনের প্রদাহ, ক্লান্তি বা লালচে ভাব দূর হবে।

৪. ব্রণ তাড়ায় কিছু নিম পাতা গুঁড়ো করে পেস্ট বানিয়ে ব্রণে লাগিয়ে দিন। যতদিন ব্রণ না শুকোচ্ছে ততদিন পর্যন্ত এভাবে লাগিয়ে যান। মুখের যেকোনো ধরনের ফুসকুড়ি, ডার্ক স্পট এবং দীর্ঘমেয়াদি ঘা দূর করে নিম।

৫. কানফোঁড়া সারায় কিছুসংখ্যক নিমপাতা গুঁড়ো করে এর সঙ্গে মধু মিশিয়ে নিন। যেকোনো ধরনের কানফোঁড়া সারাতে এই মিশ্রণের কয়েকফোঁটাই যথেষ্ট।

৬. অন্যান্য ত্বকের সমস্যাও দূর করে নিমপাতা গুঁড়ো করে পেস্ট তৈরি করে তার সঙ্গে হলুদ মিশিয়ে যেকোনো ধরনের খুজলি, একজিমা, রিঙ ওয়ার্ম এবং প্রদাহজনিত ত্বকের রোগ সারানো যায়।

৭. রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় কিছু নিমপাতা চুর্ণ করে এক গ্লাস পানির সঙ্গে মিশিয়ে প্রতিদিন সকালে পান করলে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে বহুগুণ।

ব্রণ কী? ব্রণ কেন হয় ? ব্রণের প্রকারভেদ- ব্রন কাদের বেশী হয় ? ব্রণ থেকে মুক্তির উপায়-

*ত্বকের গঠন অত্যন্ত জটিল । এ জটিলতম ত্বকে ছোট বড় এক বা একাধিক কারণে বিভিন্ন রকমের সমস্যা দেখা দেয় । এর মধ্যে অন্যতম হলো (pimple) ব্রণের সমস্যা ।
ব্রণ (pimple) মূলত টিনএজারদের সমস্যা । এ বয়সে যখন মুখের সৌন্দর্যের প্রতি সবাই আকর্ষণবোধ ও প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে, ঠিক সে বয়সেই মুখে এই বিশ্রী গোটাগুলো দেখা দেয়, যা তাদের অন্যতম দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়ায় । অথচ একটু সচেতন থাকলেই এ সমস্যা থেকে নিষ্কৃতি পাওয়া সম্ভব ।

*ব্রণ (pimple) কী?

ব্রণ (Acne vulgaris বা Acne) হচ্ছে আমাদের শরীরের ত্বকের ফলিকলের এক প্রকার দীর্ঘমেয়াদী রোগ। সাধারণত মুখমন্ডল, গলা, বুক, পিঠের উপরিভাগ এবং হাতের উপরিভাগে এই রোগটা হয়ে থাকে। এসব স্থানে ছোট ছোট দানা, ছোট ছোট ফোড়া, সিস্ট এমনকি নোডিউল হতে পারে । এ রোগটা সাধারণত মুখমন্ডলেই বেশি হয়- বিশেষ করে গালে, নাকে, কপালে এবং থুতনিতে সবচেয়ে বেশী হয়ে থাকে ।

বয়ঃসন্ধিকালে হরমোন টেস্ট্রোরেন আর প্রোজেস্ট্রোরেনের প্রভাবে ত্বকের সিবেসিয়াস গ্রন্থি অধিক হারে তেল নিঃসরণ শুরু করে । কোনো কারণে সিবেসিয়াস গ্রন্থির নালির মুখ বন্ধ হয়ে গেলে সেবাম নিঃসরণের বাধার সৃষ্টি হয় এবং তা ভেতরে জমে ফুলে উঠে যা ব্রণ (Acne) নামে পরিচিত । এর উপর জীবাণুর সংক্রমণ ঘটলে পুঁজ তৈরি হয় । অনেক সময় বাইরে থেকে এদের ছোট দেখালেও এরা বেশ গভীর হতে পারে । এজন্য ব্রণের সংক্রমণ সেরে গেলেও মুখে কাল দাগ থেকে যেতে পারে । সাধারণত ১৩ বছর বয়স থেকে ১৯ বছর বয়স পর্যন্ত শতকরা ৯০ জনের (pimple) কমবেশি হয়ে থাকে । ২০ বছর বয়সের পর থেকে (pimple) ব্রণের প্রকোপ কমতে থাকে । আবার কখনও কখনও ২০ থেকে ৩০ বছর বয়সেও এটি হতে পারে এবং অনেক বয়স পর্যন্ত থাকতে পারে ।

*ব্রণ (pimple) কেন হয় ?

ব্রণের সুনির্দিষ্ট কোন কারণ জানা না গেলেও সাধারণত বয়ঃসন্ধিকালে, বংশগত কারণে, হরমোন জনিত কারণে, হজমের গোলমাল হলে, ধূমপান, মদ্যপান ইত্যাদি কারণে ব্রণ হতে পারে। ব্রণ আমাদের শরীরের ত্বকের ফলিকলের এক প্রকার দীর্ঘ-মেয়াদী রোগ । বয়ঃসন্ধিকালে হরমোন টেস্ট্রোরেন ও প্রোজেস্ট্রোরেনের প্রভাবে ত্বকের সিবেসিয়াস গ্রন্থি অধিক হারে তেল নিঃসরণ শুরু করে । এই তেল বেরিয়ে আসার পথটি ক্রটিযুক্ত থাকায় তেল গ্রন্থির ভিতরে জমতে শুরু করে। এক সময় গ্রন্থিটা ফেটে যায় এবং তেল আশপাশের টিস্যুতে ছড়িয়ে পড়ে। তখন, ব্যাকটেরিয়া তেলকে ভেঙে টিস্যুতে ফ্যাটি এসিড উৎপাদন করে । এই ফ্যাটি এসিড ত্বকের ভেতরে প্রদাহ সৃষ্টি করে, ফলে চামড়ার মধ্যে দানার সৃষ্টি হয় । এটাই ব্রণ নামে পরিচিত । সাধারনত গলা, বুকে ও পিঠের উপরিভাগ, হাতের উপরিভাগে এবং বিশেষ করে মুখমন্ডলে এই রোগটা বেশি হয় । এসব জায়গায় ছোট ছোট দানা, ফোড়া, সিস্ট অথবা নোডিউল হতে পারে ।

*ব্রণের (pimple) প্রকারভেদ-

★ ট্রপিক্যাল একনি; যা অতিরিক্ত গরম এবং বাতাসের আর্দ্রতা বেশি হলে পিঠে এবং উরুতে হয়ে থাকে ।

★ প্রিমিন্সট্রুয়াল একনি; যা সাধারণত মহিলাদের মাসিকের সপ্তাহ খানেক আগে মুখে হতে দেখা দেয় ।

★ একনি কসমেটিকা; যা কোন প্রসাধনী দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহারের ফলে হতে পারে ।

★ একনি ডিটারজিনেকস; যা অধিক হারে মুখে সাবানের ব্যবহারের ফলে হতে পারে ।

★ স্টেরয়েড একনি; যা স্টেরয়েড জাতীয় ঔষধ সেবনে হতে পারে। এ ঔষুধ একাধারে অনেকদিন ব্যবহারের ফলে ব্রণের পরিমান আরও বেড়ে যেতে পারে ।

*ব্রন (pimple) কাদের বেশী হয়?

বয়ঃসন্ধিকালে এ রোগটা বেশী হয়। ১৩ থেকে ১৯ বছরের ছেলে-মেয়েদের মধ্যে এ রোগটা সবচেয়ে বেশি হয়ে থাকে । অনেকে দীর্ঘ সময় ধরে এ রোগে ভোগে। ২০ বছর বয়সের পর সাধারণত এ রোগটা কমে আসে । তবে কিছু কিছু মেয়েদের ক্ষেত্রে ৩০ বছর বয়স পর্যন্ত এ রোগ দেখা যায় ।

*ব্রণ (pimple) থেকে মুক্তির উপায়-

কিছু নিয়ম মেনে চললে সহজেই ব্রণ থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব । যদিও কোনো বিশেষ খাবারের কারনে ব্রণ হয় না! কিন্তু যদি কোনো খাবার খেলে ব্রণের সংখ্যা বৃদ্ধি পায়, তবে সে খাবারটি বাদ দিতে হবে । প্রচুর ফলমূল, শাক-সবজি ও পানি খেতে হবে । মুখে ব্রণ থাকলে কোন রাসায়নিক উপাদান বা কসমেটিকস ব্যবহার করা উচিত নয়, অবশ্যই প্রাকৃতিক বা হারবাল জিনিস ব্যবহার করতে হবে ।
ডাবের পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে নিতে পারেন । নিমপাতা ও কাঁচা হলুদ দিয়ে পেষ্ট বানিয়ে ব্রনে লাগিয়ে দিতে পারেন ।

সায়াটিকা কি ? এবং কি কারণে হয়ে থাকে?

#সায়াটিকা কি কি কারণে হয়ে থাকে?
#এই রোগের লক্ষণগুলো কি কি? #এর চিকিৎসা পদ্ধতি কি?

#’সায়াটিকা’কে আরবীতে “ইরকুন নিসা” বলে। ঊরুর পেছন দিক থেকে শুরু হয় একটা চিনচিনে বা শিরশিরে অনুভূতি, নেমে যায় পায়ের পেছন দিক দিয়ে নিচে, কখনো একেবারে পায়ের পাতা অবধি। কেবল ব্যথা নয়, মাঝেমধ্যে অবশ হয়ে আসা বা ঝিম ধরে থাকা অনুভূতিও হয়। এই সমস্যার নাম সায়াটিকা।

সায়াটিক স্নায়ুর মূলে কোনো সমস্যা হলে এই রোগ হয়। দীর্ঘ সময় এক জায়গায় বসে থাকলে বা দাঁড়িয়ে থাকলে এই ব্যথা বা অস্বাভাবিক অনুভূতি বাড়ে, মেরুদণ্ড ভাঁজ করে কোনো কাজ করলে, যেমন নিচু হয়ে জুতার ফিতে পরতে গেলেও চিনচিন করে উঠতে পারে। আবার হাঁটাহাঁটি করলে কিংবা সটান শুয়ে থাকলে কিন্তু কমে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে মেরুদণ্ডের কশেরুকার মধ্যবর্তী ডিস্ক বা তরুণাস্থির সরে যাওয়া, বাইরের দিকে বেরিয়ে আসা, কোনো কিছুর মাধ্যমে চাপের সম্মুখীন হওয়া ইত্যাদি কারণে সায়াটিক স্নায়ু ক্ষতিগ্রস্ত হয়।যাঁদের সায়াটিকা আছে, তাঁরা দীর্ঘক্ষণ একইভাবে বসে থাকবেন না, বিশেষ করে যদি তা আরামদায়ক না হয়।

#শীতে কোমর ও পায়ের ব্যথা তীব্র আকার ধারণ করে। এ সময় শরীরের রক্ত চলাচল কম হয়। শীতে কোমর বা অন্যান্য জয়েন্টের মাংসপেশিতে ক্র্যাম্প হয় বা টান বেশি লাগে। এতে মেরুদণ্ডের মাংসপেশি ইমব্যালেন্স হয় বা ভারসাম্যতা কমে যায়। ফলে মেরুদণ্ডের ডিস্কের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে। এতে ডিস্ক প্রলাপ্স হয়ে ব্যথা পায়ে চলে যায় এবং সায়াটিকার উৎপত্তি হয়।

#সায়াটিকার কারণ :

#মেরুদণ্ডের হাড় সরে (স্পন্ডাইলোসিস) গিয়ে যদি সায়াটিকা নার্ভের চাপ দেয়। পাইরিফরমিস মাংস পেশি শক্ত হয়ে গেলে। ডিস্ক প্রলাপ্সের কারণে কোমর থেকে জেলি বের হয়ে নার্ভের ওপর চাপ দিবে।

ডিজেনেরেশন বা স্পন্ডাইলোসিস হলে (কোমরের হাড় ক্ষয় বা বেড়ে যাওয়া)। গর্ভাবস্থায় সায়াটিকার ব্যথা হতে পারে। আঘাতজনিত কারণে সায়াটিক নার্ভের ব্যথা হতে পারে।

#লক্ষণ : ব্যথা কোমর থেকে নিচ দিকে গেলে। পা ঝিন ঝিন, জ্বালাপোড়া, ভারী ভারী এবং অবশ অবশ হলে। পায়ের ব্যথাটা শিন শিন বা কালাইয়া নিতে পারে। বেশিরভাগ সময়ে হাঁটতে ব্যথা বৃদ্ধি পায়।

হঠাৎ কোমরে ব্যাথা? কারন ও প্রতিকার ।

হঠাৎ কোমরে ব্যাথা? কারন ও প্রতিকার
কোমর ব্যাথা আজকাল সাধারণ একটি সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে, বাংলাদেশে শতকরা ৩০-৪০ ভাগ মানুষ এ ধরণের সমস্যার সম্মুখীন। একটু সতর্কতা ও বাড়তি কিছু সচেতনতাই পারে আমাদের এই সমস্যা থেকে মুক্তি দিতে।তাহলে চলুন জেনে নেই এর কারন ও কীভাবে আমরা এর থেকে পরিত্রাণ পেতে পারি, একই সঙ্গে কোমর ব্যাথা হলে আমরা কি চিকিৎসা নিব এ সম্পর্কে।
মেরুদণ্ডের গঠনঃ
আমাদের মেরুদন্ড ৩৩ টি হাড় দ্বারা গঠিত এর মধ্যে ঘার এর ৭টি, পিঠে ১২ টি, কোমরে ৫ টি হাড় এর মাঝে ২৩টি ইন্টার ভারটিব্রাল ডিস্ক থাকে। স্যাক্রাম ৫টি ও কক্সিস ৪টি করে ভারটিব্রা এর সমস্টি। এদের মাঝে কোন ডিস্ক থাকেনা।
কোমর ব্যাথার কারনঃ
কোমর ব্যাথার অনেক কারণ রয়েছে-এর মধ্যে
১। ডিস্ক প্রলাপস
২। মাসল স্পাজম
৩। ভারটিব্রা ফ্রাকচার বা হাড় ভেঙ্গে যাওয়া, সাধারণত আঘাত থেকে হয়ে থাকে
৪। কমপ্রেশন ফ্রাকচার অফ ভারটিব্রা ইত্যাদি অন্যতম
সাধারণত অনেকক্ষণ এক ভাবে বসে থাকা, শক্ত চেয়ার ব্যাবহার করা, ভারী জিনিস তোলা, পিড়িতে বসা, দুর্ঘটনা জনিত আঘাত, পড়ে গিয়ে কোমরে আঘাত থেকে এ ধরণের সমস্যা দেখা দেয়।
লক্ষনঃ
১। কোমরে তীব্র ব্যাথা
২। ব্যাথা কোমর থেকে পায়ের দিকে যাওয়া
৩। পায়ে ঝিন ঝিন সিন সিন করা
৪। বেশী ক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকলে কোমর ধরে আসা
৫।হাঁটা চলা করলে কোমরে তীব্র ব্যাথা হওয়া
৬। প্রস্রাব- পায়খানায় সমস্যা দেখা দেয়া ইত্যাদি

চিকিৎসাঃ
চিকিৎসা নির্ভর করে লক্ষণ বা উপসর্গের উপর
ডিস্ক প্রলাপসঃ ডিস্ক প্রলাপস এর চিকিৎসা নির্ভর করে এর গ্রেড এর উপর
গ্রেড-১ঃ সামান্য ডিস্ক প্রলাপস হলে নিয়মিত ব্যাকট্রেচিং এক্সারসাইজ বা কোমরের ব্যায়াম, কিছু ওষুধ এবং লাম্বার কোরসেট বেল্ট ব্যাবহারে ধিরে ধিরে সেরে যায়।
গ্রেড-২ঃ মধ্যম মাত্রায় ডিস্ক প্রলাপস এ কোমরে এপিডুরাল স্টেরয়েড ইনজেকশন ও এর সঙ্গে নিয়মিত ব্যায়াম করলে ও ওষুধ সেবনে ভালো ফল পাওয়া যায়।
গ্রেড-৩ঃ অতি মাত্রায় ডিস্ক প্রলাপস এর ক্ষেত্রে সাধারণত সার্জারির পরামর্শ দেয়া হয়।
মাইক্রোলাম্বার ডিকম্প্রেশন সার্জারি সাধারণত করা হয়। লেজার সার্জারিতে খুব একটা ভালো ফল পাওয়া যায়না।
মাসলস্পাজমঃ এ ধরণের সমস্যায় সাধারণত ব্যায়াম,মাসল রিলাকজেন্ট ওষুধ দেয়া হয়।
কমপ্রেশন বা ডেফিনিটিভ ভারটিব্রাল ফ্রাকচারঃ এর ক্ষেত্রে সাধারণত সার্জারির পরামর্শ দেয়া হয়। ফ্রাকচার এর ধরন অনুযায়ী সার্জারির ধরন নির্ধারিত হয়ে থাকে।

Design a site like this with WordPress.com
Get started