হঠাৎ কোমরে ব্যাথা? কারন ও প্রতিকার
কোমর ব্যাথা আজকাল সাধারণ একটি সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে, বাংলাদেশে শতকরা ৩০-৪০ ভাগ মানুষ এ ধরণের সমস্যার সম্মুখীন। একটু সতর্কতা ও বাড়তি কিছু সচেতনতাই পারে আমাদের এই সমস্যা থেকে মুক্তি দিতে।তাহলে চলুন জেনে নেই এর কারন ও কীভাবে আমরা এর থেকে পরিত্রাণ পেতে পারি, একই সঙ্গে কোমর ব্যাথা হলে আমরা কি চিকিৎসা নিব এ সম্পর্কে।
মেরুদণ্ডের গঠনঃ
আমাদের মেরুদন্ড ৩৩ টি হাড় দ্বারা গঠিত এর মধ্যে ঘার এর ৭টি, পিঠে ১২ টি, কোমরে ৫ টি হাড় এর মাঝে ২৩টি ইন্টার ভারটিব্রাল ডিস্ক থাকে। স্যাক্রাম ৫টি ও কক্সিস ৪টি করে ভারটিব্রা এর সমস্টি। এদের মাঝে কোন ডিস্ক থাকেনা।
কোমর ব্যাথার কারনঃ
কোমর ব্যাথার অনেক কারণ রয়েছে-এর মধ্যে
১। ডিস্ক প্রলাপস
২। মাসল স্পাজম
৩। ভারটিব্রা ফ্রাকচার বা হাড় ভেঙ্গে যাওয়া, সাধারণত আঘাত থেকে হয়ে থাকে
৪। কমপ্রেশন ফ্রাকচার অফ ভারটিব্রা ইত্যাদি অন্যতম
সাধারণত অনেকক্ষণ এক ভাবে বসে থাকা, শক্ত চেয়ার ব্যাবহার করা, ভারী জিনিস তোলা, পিড়িতে বসা, দুর্ঘটনা জনিত আঘাত, পড়ে গিয়ে কোমরে আঘাত থেকে এ ধরণের সমস্যা দেখা দেয়।
লক্ষনঃ
১। কোমরে তীব্র ব্যাথা
২। ব্যাথা কোমর থেকে পায়ের দিকে যাওয়া
৩। পায়ে ঝিন ঝিন সিন সিন করা
৪। বেশী ক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকলে কোমর ধরে আসা
৫।হাঁটা চলা করলে কোমরে তীব্র ব্যাথা হওয়া
৬। প্রস্রাব- পায়খানায় সমস্যা দেখা দেয়া ইত্যাদি
চিকিৎসাঃ
চিকিৎসা নির্ভর করে লক্ষণ বা উপসর্গের উপর
ডিস্ক প্রলাপসঃ ডিস্ক প্রলাপস এর চিকিৎসা নির্ভর করে এর গ্রেড এর উপর
গ্রেড-১ঃ সামান্য ডিস্ক প্রলাপস হলে নিয়মিত ব্যাকট্রেচিং এক্সারসাইজ বা কোমরের ব্যায়াম, কিছু ওষুধ এবং লাম্বার কোরসেট বেল্ট ব্যাবহারে ধিরে ধিরে সেরে যায়।
গ্রেড-২ঃ মধ্যম মাত্রায় ডিস্ক প্রলাপস এ কোমরে এপিডুরাল স্টেরয়েড ইনজেকশন ও এর সঙ্গে নিয়মিত ব্যায়াম করলে ও ওষুধ সেবনে ভালো ফল পাওয়া যায়।
গ্রেড-৩ঃ অতি মাত্রায় ডিস্ক প্রলাপস এর ক্ষেত্রে সাধারণত সার্জারির পরামর্শ দেয়া হয়।
মাইক্রোলাম্বার ডিকম্প্রেশন সার্জারি সাধারণত করা হয়। লেজার সার্জারিতে খুব একটা ভালো ফল পাওয়া যায়না।
মাসলস্পাজমঃ এ ধরণের সমস্যায় সাধারণত ব্যায়াম,মাসল রিলাকজেন্ট ওষুধ দেয়া হয়।
কমপ্রেশন বা ডেফিনিটিভ ভারটিব্রাল ফ্রাকচারঃ এর ক্ষেত্রে সাধারণত সার্জারির পরামর্শ দেয়া হয়। ফ্রাকচার এর ধরন অনুযায়ী সার্জারির ধরন নির্ধারিত হয়ে থাকে।
